Saturday, November 2, 2019

https://myeyecamp.blogspot.com

“পরশমনি” ঈদ এ মিলাদুন্নবী (দঃ) উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল, হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পারিবারিক জীবন নিয়ে আলোচনা-
নবী (দঃ) মোর পরশমনি, নবী মোর সোনার খনি
নবী নাম জপে যেই জন সেই তো দু’জাহানের ধনী।।
নবী ছাড়া নাই সাহারা, জানরে দুনিয়া ওয়ালা,
নবী মোদের পরশমনি, নবী গলার মালা।।

* গোটা পৃথিবীর অজ্ঞতা, নির্মমতা, বর্বরতা, অত্যাচার, নির্যাতন, পাপাচার, পাশবিকতায় ছিল ভরপুর। নারী সমাজ ছিল অত্যন্ত অবহেলিত, ভোগের বস্তু এবং অধিকার বঞ্চিত, ঠিক এহেন সংকটময় মুহুর্তে অন্ধকার আলোক বর্তিকা হয়ে পথহারা মানুষকে সরল সঠিক পথের নির্দেশনা দিতে প্রায় এক হাজার পাঁচশত বছর আগে ৫৭০ খ্রিঃ ১২ রবিউল আউয়াল রোজ সোমবার মক্কার অত্যধিক সম্মানিত কুরাইশ বংশে আগমন করেছেন, মানবতার মুক্তির দূত দু’জাহানের সরদার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যার তাশরিফ আনয়নে আনন্দিত হলো আকাশ, বাতাস, পশু, পাখি, সাগর-নদী, মানব-দানব সমগ্র সৃষ্টি। তারই ধারাবাহিকতায় আজও সে দিবসটিকে সারা বিশ্ব জগতের মুসলমান অত্যধিক শ্রদ্ধা ভালোবাসায় নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে উদ্যাপন করে আসছে। এ আনন্দ উৎসবটি মুসলিম মিল্লাতের নিকট পবিত্র ঈদ এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসেবে সুপরিচিত।
* ঈদ এ মিলাদুন্নবী এখানে দু’টি অংশ, প্রথমটি হল ঈদ যার অর্থ আনন্দ, খুশী, উল্লাস ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি মিলাদ আভিধানিক দৃষ্টিকোন হতে এর অর্থ জন্ম, জন্মস্থান, বা জন্মকাল ইত্যাদি। সুতারাং ঈদে মিলাদুন্নবী অর্থ নবীর জন্ম উপলক্ষে আনন্দিত হওয়া, উল্লাস করা, খুশী উদ্যাপন করা ইত্যাদি। প্রচলিত অর্থে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনকে উপলক্ষ্য করে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে অথবা অন্য যেকোন মাসে মিলাদ মাহফিল, যিকির -আযকার, সভা-সমাবেশ, আনন্দ মিছিল, দান-সদকা, তাবারুক বিতরণ ইত্যাদির যে কোন বৈধ আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করাকে ঈদ এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে আখ্যায়িত করা হয়। যুগযুগ ধরে এ বরকতময় মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথা এই ইবাদত পালিত হচ্ছে।
* ঈদ এ মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপনঃ-
ঈদ এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্যাপন বৈধ ও উত্তম আমল। যা পবিত্র কোরান ও হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। এ বিষয়ে হাদিসে দলিল প্রমাণ অনেক আছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরান মাজিদে নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের নির্দেশ দিয়েছেন- “সুতারাং তোমরা স্বরণ কর, আমি তোমাদেরকে স্বরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, অকৃতজ্ঞ হয়োনা।” এ থেকে বুঝা গেল যে, আল্লাহর নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন করা প্রত্যেক মানুষের উপর ওয়াজিব বা অপরিহার্য। শোকরিয়া জ্ঞাপনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। যেমন আল্লাহর প্রদত্ত নিয়ামতের বর্ণনা দেওয়া, নিয়ামতের উপর আনন্দ উদ্যাপন করা, উল্লাস করা, ঈদ উদ্যাপন করা ইত্যাদি।

* পারিবারিক জীবন নিয়ে আলোচনাঃ-
পারিবারিক জীবনে প্রবেশ করার মাধ্যমে মানুষের পূর্ণতা ঘটে। (কিন্তু আল্লাহর নবী মুহাম্মাদুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে উক্ত উক্তি ব্যবহার করা যাবেনা, কেননা তিনি দুনিয়ার সব মানুষের সর্বোদিক দিয়ে বে-মেছাল) পারিবারিক জীবনের সূত্র নিয়ে মানব জীবনে যাত্রা শুরু হয়।
এ পরিবারের বিন্যাস ছিল স্বামী- স্ত্রী, সন্তান, মা বাবা, ভাই, বোন নিয়ে পরিবার গঠিত। সকলের সাথে সুসস্পর্ক ও অধিকার নিশ্চিত করার উপরই পারিবারিক জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করে। পারিবারিক পবিত্রতা ও সুস্বাস্থতার উপর নির্ভর করে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বময় মানব জাতীয় কল্যাণ। আল্লাহর দেয়া বিধি-বিধান মতে যারা এ অধ্যায় পরিচালনা করতে পারেন, তাদের নেতৃত্বই এ সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে যার পদচারণা ও দর্শন আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে, তিনি হচ্ছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তার গোটা জীবন উম্মতের জন্য আদর্শ। তার জীবনে একাধারে সমূদয় মানবীয় জ্ঞানের বিকাশ হয়েছিল। বাল্যকাল থেকেই তিনি সহিষ্ণুতা, ধৈর্য্য ও আত্মত্যাগের পূর্ণ আদর্শ ছিলেন। পবিত্রতা, বিশ্বস্থতা, দয়া, ক্ষমা, ভালোবাসা, সরলতা, বিনয়, উদারতা, শিষ্টাচার, মহানুবভবতার প্রকাশ ছিল গোটা জীবন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র (দুনিয়াবী) ২৫ বছর বয়সে খাদিজাতুল কোবরা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
খাদিজাতুল কোবরা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্ত্রী, একাধারে রাসুলের সাথী এবং তার নিজের অর্থকে দ্বীন প্রচারের কাজে ব্যয় করে দেখিয়ে ছিলেন ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা। নবুওয়াতের সূচনা থেকে খাদিজাতুল কোবরা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিপূরক।
* রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল নারীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তাদের উম্মাহাতুল মু’মিনিন অর্থাৎ মুসলমানদের মাতা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
“নবী মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা” (সুরা আহযাব, আয়াত -০৬)
বিবি খাদিজাতুল কোবরা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার ইন্তেকালের পর রাসুুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল ১০জন বা মতান্তরে ১২জন নারীকে বিবাহ বন্ধনে নিয়েছেন। স্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র বিবি আয়শা ছিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ছিলেন কুমারী, বাকী সব ছিলেন বিধবা।
রাসুুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদের কিরূপ ভালোবাসতেন তাঁর প্রমাণ - তিনি সাহাবীদের লক্ষ্য করে ইরশাদ করলেন, “তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে স্বীয় স্ত্রীর কাছে উত্তম, আর আমি আমার স্ত্রীদের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম” নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- দুনিয়ার সকল বস্তুই নেক উপভোগের সামগ্রী, তন্মধ্যে ধার্মিক ও সতী-সাধবী স্ত্রীই শ্রেষ্ঠতম সম্পদ।
আবু হুরায়রাহ রাদিলল্লাল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিশ্বাসী মুসলমান যেন বিশ্বাসী নারীর সম্বন্ধে মনে কোন প্রকার বিদ্বেষভাব পোষণ না করে। যদি সে স্ত্রীর এক দোষের জন্য অসন্তুষ্ট হয়, তবে অন্য গুনের জন্য সে যেন সন্তুষ্ট থাকে। এ ছাড়া হুজুর পুর নুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের গৃহˉ’লী কাজে সহযোগিতা করতেন, বাহির থেকে এসে যদি দেখতেন রান্না তখনও বাকী, তবে রান্নার কাজে সহযোগিতা করতেন। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে জিজ্ঞাসা করা হয়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাসগৃহে কি কাজ করতেন? হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন - তিনি সাধারণত ঘরোয়া সব ধরনের কাজে ব্যˉ— থাকতেন।
তিনি প্রতিদিন আসরের নামাজান্তে সব স্ত্রীদের গৃহে গমন করতেন, তাদের কাছে বসতেন এবং তাদের হাল অবস্থা জানতেন। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা আরো বলেন- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে এমনভাবে কথা বলতেন এবং হাসতেন তখন মনেই হয়না তিনি একজন পয়গাম্বর বা রাসুল, তবে যখন কোন ধর্মীয় বিষয় হতো, দায়িত্বের বিষয় হতো অথবা নামাজের সময় হতো যেন তিনি আগের লোকটি নেই।
স্ত্রীদের মোহরানা আদায়ের ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের সতর্ক করে বলেছেন- তাদের মোহরানা তাদেরকে পরিশোধ করে দাও। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাসিধা থাকা পছন্দ করতেন। লোভ-লালসা-মুক্ত ছিলেন। তিনি প্রতিবেশী এবং ক্ষুধার্তের প্রতি খেয়াল রাখতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ করতেন, শিশুদের সাথে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। পরিবারের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালাল রুজির ব্যাপারে গুরুত্বরোপ করেছেন।
“যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পূরণ করে তাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে (সুরা আহযাব)

মীলাদ ও মীলাদুন্নবী শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফে আছে কিনাঃ
বাতিলপন্থীরা বলে থাকে মীলাদ বা মীলাদুন্নবী শব্দের ব্যবহার নাকি কুরআন শরীফ হাদীস শরীফে কোথাও নাই। এটা নাকি মনগড়া এবং নতুন উদ্ধাবিত শব্দ। তাহলে আসুন দেখা যাক মীলাদ ও মীলাদুন্নবী শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফে আছে কিনাঃ
মিলাদ শব্দটির মূল অক্ষর হচ্ছে و + ل + د) ولد) । আমরা দেখব কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফে মূল অক্ষরে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে কিনা।
কোরআন শরীফে মীলাদ শব্দের প্রমানঃ
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
আর শান্তি বর্ষিত হোক আমার উপরে যে দিন আমার জন্ম হয়েছিলো, আর যে দিন আমি ইন্তেকাল করবো । আর যে দিন আমাকে পুররুত্থিত করা হবে জীবিত অবস্থায় । (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)

অনুরূপ হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিজের বক্তব্য উল্লেখ করে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
অর্থ : “আমার প্রতি সালাম (অবারিত শান্তি) যেদিন আমি বিলাদতী শান প্রকাশ করি, যেদিন আমি বিছালী শান প্রকাশ করবো এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবো।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
আমরা দেখলাম কুরআন মাজীদে মূল অক্ষরে وَلَدَتُ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে; যার অর্থ আমি জন্ম গ্রহণ করেছি । এ শব্দটি প্রমাণ করে মিলাদের মূল অস্তিত্ব কুরআন শরীফে বিদ্যমান ।
হাদীস শরীফে মীলাদ শব্দের প্রমানঃ
আসুন দেখা যাক, কুরআন শলীফের পাশাপাশি হাদীস শরীফে এ শব্দটির ব্যবহার হয়েছে কিনা । ছিয়া ছিত্তার অন্যতম কিতাব, জামে তিরমিযী শরীফে ميلاد ‘মিলাদ’ (জন্মের সময়) শব্দটি নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই ব্যবহার করেছেন । যেমনঃ
১) নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম সাল সম্পর্কে হযরত কায়স ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ

عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: “وُلِدْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ. وَسَأَلَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ قُبَاثَ بْنَ أَشْيَمَ أَخَا بَنِي يَعْمَرَ بْنِ لَيْثٍ أَأَنْتَ أَكْبَرُ أَمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْبَرُ مِنِّي وَأَنَا أَقْدَمُ مِنْهُ فِي الْمِيلادِ وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ. رواه الترمذي وقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لا نَعْرِفُهُ إِلا مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ.
অর্থাৎ আমি ও রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুজনেই “হাতীর বছরে” জন্মগ্রহণ করেছি । হযরত উসমান বিন আফফান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কুবাস বিন আশিয়ামকে প্রশ্ন করেনঃ আপনি বড় না রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় ? তিনি উত্তরে বলেনঃ রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার থেকে বড়, আর আমি উনার পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছি ।
দলীলঃ তিরমিযি, আবূ ঈসা মুহাম্মদ ইবনু ঈসা (২৭৯ হিঃ), আস সুনান, , (প্রকাশনা- বৈরুত, দারু ইহ্‌য়ায়িত তুরাসিল আরাবী, হাদিস নং ৩৬১৯

২) হাদীস শরীফে আমরা আরও দেখতে পাই নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
ما من مولود الا يولد على الفطرة অর্থাৎ প্রত্যেক শিশু তার স্বভাবের উপর জন্মলাভ করে ।
দলীলঃ বুখারী শরীফ খন্ড-১, পৃষ্টা- ১৪, হাদিস নম্বর ১৩৫৮,
মুসলিম শরীফ, আস সহীহ হাদীস নং ৬৯২৬

সূতরাং দেখা হাদীস শরীফে “মাওলুদ” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ।
৩) বিশুদ্ধ হাদীস শরীফে এসেছে,
سءل رسول صلي عليه و سلم عن صوم الاثنين فقال فيه ولدت وفيه انزل علي وحي
অর্থ: হযরত আবু কাতাদা আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সোমবারে রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হল, তখন নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যে, এদিন আমি বিলাদত শরীফ লাভ করেছি, আর এদিনই আমার উপর ওহী বা কুরআন শরীফ নাজিল হয়েছে।”
দলীল –
√সহীহ মুসলিম,হাদীছ শরীফ নং-২৮০৭
√সুনানে আবু দাউদ, হাদীছ শরীফ নং-২৪২৮
√ সুনানে বায়হাকী [কুবরা], হাদীছ শরীফ নং-৮২১৭
√ সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীছ শরীফ নং-২১১৭
√ মুসনাদে আবি আওয়ানা, হাদীছ শরীফ নং-২৯২৬
√ মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ শরীফ নং-২২৫৫০

৪) হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণ স্ব স্ব কিতাবে মিলাদ শব্দটি ব্যবহার করেছেনঃ
বিখ্যাত মুহাদ্দিস আবূ ঈসা মুহাম্মদ ইবনু ঈসা তিরমিজী রহমতুল্লাহি আলাইহি (হিজরী ২৭৯) তার বিখ্যাত কিতাব জামে তিরমিযীর ২য় খণ্ডের ২০৩ পৃষ্ঠায় একটি শিরোনাম রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন-
باب ما جاء فى ميلاد النبى صلى الله عليه وسلم অর্থাৎ যা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম সম্পর্কে এসেছে । এখানে তিনি ‘মিলাদুন্নবী’ শব্দটি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মবৃত্তান্ত বুঝাতে ব্যবহার করেছেন ।
অনুরূপভাবে ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৪৫৮ হিঃ) তার বিখ্যাত সিরাত সংক্রান্ত হাদিসের কিতাব ‘দালায়েলুন নবুওয়ত” নামক কিতাবের ১ম খণ্ডের ৪৯ পৃষ্ঠায় ابواب ميلاد رسول الله শীর্ষক একটি অধ্যায় এনেছেন, যেখানে স্পষ্ট মীলাদে রসূল শব্দটি উল্লেখ করেছেন । যেখানে তিনি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনবৃত্তান্ত আলোচনা করেছেন ।

সূতরাং কুরআন শরীফ , হাদীস শরীফ ও হাদীস শরীফে ইমামদের স্পষ্ট দলীল দ্বারাই মীলাদ ও মীলাদুন্নবীর প্রমান পাওয়া গেলো। সুবহানাল্লাহ।
ইয়া রাব্বানাল করিম পরওয়ার দিগারে আলম, তোমার সব বিধান পুরোপুরি ও সাইয়্যেদুল আম্বিয়া, শফিউল মুজনেবীন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার অনুসরণ অনুকরণ করার মাধ্যমে আমাদের নাজাতের পথে পরিচালিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন- ছুম্মা আমিন।

No comments:

Post a Comment